বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট বলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ রাশেদ তালুকদারের আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শাহ আলম।
বিচারক বাদীর জবানবন্দী গ্রহণ শেষে দুপুরে মামলাটি খারিজের আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘গত ৭ সেপ্টেম্বর এক বক্তৃতায় হানিফ বলেন, আল কায়েদার সঙ্গে তারেক রহমানের যোগসূত্র অস্বাভাবিক নয়। তিনি আইএসআইয়েরও এজেন্ট। হানিফের এ বক্তব্য পত্রপত্রিকাসহ বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়।’
মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য বাদী গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিবাদী মাহবুবুল হক হানিফকে একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন।
মামলার অভিযোগের বর্ণনায় দেখা যায়, বিবাদী এই লিগ্যাল নোটিশ পেয়েছেন এবং ভেবে চিন্তে বক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছেন। কিন্তু বক্তব্য প্রত্যাহার না করায় বাদীর কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে, হানিফ ইচ্ছাকৃতভাবে অসত্য বক্তব্য দিয়ে তারেক রহমানের মানহানি ঘটিয়েছেন।
বাদীর অভিযোগ মতে, অসত্য বক্তব্য দিয়ে এবং তা প্রত্যাহার না করায় দেশে বিদেশে তারেক রহমানের মান সম্মান দারুলভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
হানিফ তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেবেন এবং তারেক রহমানের নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা চাইবেন বলে বাদীর প্রত্যাশা ছিল।
বাদী আরো অভিযোগ করেন, হানিফের এ বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ায় তারেক রহমান ও তার মানহানি ঘটেছে।
বাদী তার মামলায় ৮ জনকে সাক্ষি করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় নবগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের হানিফ বলেন, ‘২০০১ সালে হাওয়া ভবন থেকে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল। এ ইতিহাস সবাই জানে। এখন বাংলাদেশে আল-কায়েদার যে ঘাঁটি গড়ার কথা শোনা যাচ্ছে, তার সঙ্গে তারেক রহমানের যোগসূত্র থাকার বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়।’
মাহবুব উল আলম হানিফ ওইদিন আরও বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের এজেন্ট ছিলেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে আইএসআইয়ের দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে।’
‘তারেক রহমানও আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে, তার তথ্যপ্রমাণ আছে তাদের কাছে’ বলে মন্তব্য করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি বলেন, ‘২০০১ সালের পর দেশে যে জঙ্গীবাদের উত্থান হয়েছিল তা হাওয়া ভবনের মদদে হয়েছিল। তারেক রহমান মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে দুবাইতে বৈঠক করেছিল।’
তারেক রহমানের সঙ্গে নতুন করে আল কায়েদার সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে ঘাঁটি করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে বা তার সঙ্গে যোগসূত্র থাকতে পারে বলে মনে করেন মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি আরো বলেন, ‘যোগসূত্র থাকলে জাতির কাছে তা অস্বাভাবিক বলে মনে হবে না।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সম্পর্কে হানিফ অভিযোগ করে বলেন, ‘তিনি বাম সংগঠন করতেন, আর বাম সংগঠনগুলো মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় নি, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। তাই ফখরুল ইসলামসহ অন্যরা আজ বড় বড় কথা বললেও তারা মুক্তিযুদ্ধ করেননি।’
আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘এ কে খন্দকার নিজেই তার বইয়ে লিখেছেন, বয়সের কারণে তার চিন্তাশক্তি লোপ পেয়ে গেছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাইরের কোনো অপশক্তি তাকে দিয়ে এ সব বিভ্রান্তিকর কথা লিখিয়েছে।’


No comments:
Post a Comment