টেস্টের এক দিনে সর্বশেষ
কবে এতগুলো ব্যাটিং রেকর্ড হয়েছে, একটা গবেষনা হতেই পারে নিউজিল্যান্ডের
বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আবুধাবী টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে। পাকিস্তানের টপ
অর্ডারদের দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপূন্যে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তান
গড়েতুলেছে ৫৬৬ রানের পাহাড়।
পাকিস্তানের টপ-অর্ডারের প্রথম পাঁচ
ব্যাটসম্যানের রান – আহমেদ শেহাজাদ ১৭৬(৩৭১ বল), মোহাম্মদ হাফিজ ৯৬(১৩৭
বল), আজহার আলী ৮৭,(২১৫) মিসবাহ-উল হক ১০২(১৬২ বল) ও ইউনিস খান ১০০(১৪১
বল)। শেষের দু’জন আবার অপরাজিত। পাকিস্তানের জন্য তো বটেই টেস্ট ক্রিকেটের
ইতিহাসেই গতকাল প্রথমবারের মতো এই ঘটনা। প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানেরই আশি
ছাড়ানো ইনিংসের প্রথম নজির এটি। পাকিস্তানের পক্ষে রেকর্ড হয়েছে আরো
অনেকগুলো।
রেকর্ড হয়েছে আরও। একই ইনিংসে পাকিস্তানের
পাঁচ ব্যাটসম্যানই অর্ধশতক করেছেন। এটিও রেকর্ড। ২৩ বছরের কম বয়সীদের
মধ্যে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩৫০ বা বেশি বল খেলার রেকর্ড গড়েছেন আহমেদ
শেহজাদ। ১৭টি চার ও একটি ছক্কায় ১৭৬ রানের ইসিংস খেলতে বল খেলেন ৩৭১টি। আর
কনিষ্ঠ পাকিস্তানি হিসেবে ১৫০ বা তার বেশি রানের ইনিংস খেলার রেকর্ডও
গড়েছেন শেহজাদ।
আগের দিন সেঞ্চুরি পাওয়া আহমেদ শেহজাদের
পর আজ শতরান ছুঁয়েছেন ইউনুস খান এবং মিসবাহ উল হক। তবে তাদের উৎসবের
বিষাদের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে সর্বকনিষ্ট পাকিস্তানি হিসাবে টেস্টে দেড়শো
রানের মাইলফলক পেড়োনো শেহজাদ কোরি অ্যান্ডারসনের বাউন্সারে আহত হয়ে
হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।
প্রথম দুই উইকেটেই দেড়শোর বেশি রান এর আগে
কখনোই করতে পারেনি তারা। হাফিজকে সঙ্গে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ১৭৮ রান
তোলার পর আজহার আলীকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে শেহজাদ যোগ করেন আরো ১৬৯ রান!
ফলে গত ষোল বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এক উইকেট হারিয়েই ৩০০ রান পেরোনোর
কৃতিত্ব দেখায় তারা।
মধ্যা বিরতির ঠিক আগ অ্যান্ডারসনের ঐ
বাউন্সারে তাল হারিয়ে স্ট্যাম্পের উপর পড়ে যান শেহজাদ। পড়ে এক্সরে
প্রতিবেদনে জানা যায়, অবস্থা আশঙ্কামুক্ত হলেও মাথার খুলিতে সূক্ষ্ম চীড়
দেখা গেছে শেহজাদের। তবে হিট উইকেট হবার আগে ১৭৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে
নির্বাচকদের আস্থার জবাব ঠিকই দিয়ে যান ২২ বছর বয়সী এই তরুন। ২৩ বছরের কম
বয়সী কোন পাকিস্তানির পক্ষে ৩৫০ বলের বেশী খেলার মাত্র চতুর্থ ঘটনা ছিল
এটা।
বিরতির পরপরই টানা তৃতীয় সেঞ্চুরি থেকে ১৩
রান দূরে থাকতে ফিরে যান আজহারও। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ
টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করা এই তরুণ পরিণত হন স্পিনার ইশ সোধির
শিকারে।
তবে আজহারের বিদায় যেন হীতে বিপরীত হয়
ব্ল্যাক ক্যাপসদের জন্য। চতুর্থ উইকেটে জুটি বাধেন দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই
ব্যাটসম্যান ইউনুস এবং মিসবাহ। বলের সাথে প্রায় পাল্লা দিয়ে অবিচ্ছিন্ন এই
জুটিতে তোলেন ১৯৩ রান। ইউনুসের ১০০ রান আসে ১৪১ বলে।
অন্যদিকে মাত্র গত ইনিংসেই টেস্ট ইতিহাসের
দ্রূততম সেঞ্চুরিতে ভিভ রিচার্ডসের রেকর্ডে ভাগ বসানো মিসবাহ ১৬২ বল খেলে
অপরাজিত থাকেন ১০০ রানে।
এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে একদিক থেকে ইউনুসকে
ছুঁয়েও ফেললেন মিসবাহ। টানা তিন ইনিংসে সেঞ্চুরি করা পঞ্চম পাকিস্তানি হলেন
তিনি। জহির আব্বাস, মুদাসসর নজর, মোহাম্মদ ইউসুফের পর অস্ট্রেলিয়ার
বিরুদ্ধে সর্বশেষ সিরিজেই এই রেকর্ড গড়েছিলেন ইউনুস।
১৯৯০ সালে রমিজ রাজা ও শোয়াইব মোহাম্মদের
রেকর্ড ভেঙে ওপেনিং জুটিতে সর্বোচ্চ ১৭২ রান করেছেন হাফিজ-শেহজাদ। আর
পাকিস্তান এই ইনিংসের আগে ওপেনিংয়ে ১৫০ বা তার বেশি রান সর্বশেষ করেছিল
২০০০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে।
২০১৪ সালে পাকিস্তানের টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ১৪টি শতরান করেছেন। যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শতকের রেকর্ড। ২০০৬ সালে করেছিল ১৯টি।
এবার সেখানে যুক্ত হলো মিসবাহর নামও। কোন উইকেট না হারিয়ে ১৫ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে নিউজিল্যান্ড।


No comments:
Post a Comment