বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৩০ শতাংশই অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) অবদান। বর্তমান বিশ্বে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালক বেসরকারি খাত। আর বেসরকারি উদ্যোগের অধিকাংশই এসএমই। বাংলাদেশে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ৯৯ শতাংশই এমএসএমই। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ক্ষুদ্র এসএমই অবদান ২৫ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির ৮০ শতাংশই আসে এমএসএমই থেকে।’
শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে আয়োজিত ‘এসএমই উন্নয়ন: কার্যকরী এসএমই অ্যাসোসিয়েশনের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গভর্নর। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সভাপতি ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী।
দারিদ্র্য দূরীকরণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে গভর্নর বলেন, ‘দরিদ্রতা হলো ভূতের ভয়ের মতো। সবাই এক সঙ্গে থাকলে যেমন ভূতের ভয় দূর হয় তেমনি দরিদ্রতা দূর করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দরিদ্রতা দূরীকরণে এমএসএমই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক, বিআইবিএম, আইডিইবি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সিরডাপ, আরডিএ (বগুড়া), বাংলাদেশ উইম্যান চেম্বার অব কমার্স (বিডব্লিওসিসিআই), বেসিক ব্যাংক লিমিটেড এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড সেমিনারটি যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
ড. আতিউর রহমান তার বক্তব্যে আরো বলেন, ‘আমাদের উদ্যোক্তাদের প্রধান অভাব হলো আস্থার অভাব, টাকার অভাব নয়। উদ্যোক্তারা যদি নিজেদের প্রতি আস্থা রেখে কাজ করতে পারেন তবে প্রতিষ্ঠিত হতে কোনো বাধাই আটকাতে পারবে না।’
‘নারী উদ্যোক্তাদের ৫০ কোটি টাকার আলাদা একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে’ উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘এখান থেকে খুব সহজে নারী উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে পারবেন।’
‘শেষ পাঁচ বছরে ১৯ লাখ এমএসএমই উদ্যোক্তাকে ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার অর্থায়ন করা হয়েছে। এরমধ্যে ৯০ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউএস ডলারের বেশি আর্থায়ন করা হয়েছে। উৎপাদন খাতে ঋণের প্রবাহ আশাব্যঞ্জকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকিং খাত দুই লাখ ৫০ হাজার নতুন ব্যবসায়ীকে ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার অর্থায়ন করেছে। এতে শেষ পাঁচ বছরে ক্ষুদ্র এসএমই খাতে ১৫ লাখের বেশি নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’
সেমিনারে উপস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের বাণিজ্যকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারি। ভারতের যেসব পণ্য বাংলাদেশে আসে এবং বাংলাদেশের যেসব পণ্য ভারতে যায় সেটার পরিধি আরো বাড়ানো সম্ভব। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে লেদার, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন খাতে আরো উন্নতি করতে পারে প্রতিবেশি দেশ দুটি।’
ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি দেশ। এদেশের উন্নয়নের জন্য ভারত এবং চীন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।’
এসএমই অ্যাসোসিয়েশন সদস্যদের কীভাবে সহায়তা করতে পারে মূল প্রবন্ধে তা তুলে ধরেন আইএমএসএমই অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান রাজীব চাওলা। তিনি বলেন, ‘একটা অ্যাসোসিয়েশন শক্তিশালী হলে, উদ্যোক্তাদের আর ব্যাংকের কাছে যেতে হবে না। অ্যাসোসিয়েশনই ব্যাংক থেকে ঋণ এনে উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করবে।’
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. সবুর খান, বিডব্লিওসিসিআইয়েরর সভাপতি সেলিমা আহম্মদ, সিরডাপের মহাপরিচালক সিসিপ ইফেন্ডি, বেসিক ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাইয়্যুম, আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আরএফ হুসাইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহ, আইডিইবির সভাপতি একেএমএ হামিদ প্রমুখ।


No comments:
Post a Comment