জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদের বিরুদ্ধে সোমবার আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ।
আদেশ প্রাপ্তির ১০ (দশ) দিনের মধ্যে রুলের জবাব দেয়ার জন্য ভাইস-চ্যান্সেলরকে নির্দেশ দেন আদালত ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রভাষক (শিক্ষা) মো. হাফিজুর রহমানের দায়ের করা এক মামলায় বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি কাজী মো. ইজাজুল হক আকন্দ ওই রুল জারি করেন।
মামলাটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট আব্দুর রব চৌধুরী।
মামলার বাদী মো. হাফিজুর রহমান জানান, ২০০৪ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে জনবল নিয়োগের উদ্দেশ্যে ‘দৈনিক ইনডিপেনডেন্ড’ ও ‘দৈনিক আজকালের খবর’ পত্রিকায় জাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সৃজনের তথ্য উৎঘাটন করে তিনি (হাফিজুর রহমান) জনস্বার্থে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত হওয়ায় চার্জশিটভূক্ত আসামিরা পূর্বপরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে (হাফিজুর রহমান) হত্যার উদ্দেশ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেদম প্রহার করে মারাত্মক জখম এবং টাকাসহ মূলবান জিনিস ও কাগজপত্র ছিনতাই করে নিয়েছিল। এ ব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ডিন ড. এসএম আবু রায়হান বাদী হয়ে আবু হানিফ খন্দকার, মেহের আলী, মিয়াজ উদ্দিন, আফজাল হোসেন, শাহ আলম, আতাউর রহমান এবং আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত চার্জশিটভূক্ত আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছিলেন।
বাদী বলেন, ওই রায়ের খবর জাতীয় বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত হওয়ার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও চাকরি সংবিধি এবং বিএসআর-এর বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় চার্জশিটভূক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বেতন-ভাতাদির নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল তছরুপ ও অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে জনস্বার্থে তিনি সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর কাজী শহীদুল্লাহ, সাবেক প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর তোফায়েল আহমদ, সাবেক ট্রেজারার কাজী ফারুক আহমেদ ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল হোসেনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় দুর্নীতি মামলা করেছিলেন। এ কারণে আসামিরা আক্রোশঃবশত পরস্পর যোগসাজসে পূর্বপরিকল্পিত ও ষড়ন্ত্রমূলকভাবে নিজেরাই বিচারক সেজে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে একতরফা পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন সৃজন করে ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাকে চাকরি হতে বরখাস্ত করেন। ওই বরখাস্ত আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে রিট মামলা দায়ের করলে, আদালত ওই অবৈধ বরখাস্তের আদেশটি ৩ (তিন) মাসের জন্য স্থগিত করেন। এছাড়া বরখাস্তের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রুল নিশি জারি করা হয়েছিল। ওই স্থগিতাদেশের কপি বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিয়ে তিনি কর্মস্থলে যোগদান করতে গেলে মামলার আসামিরা তা গ্রহণ করেননি এবং বেতন-ভাতাদিসহ পূর্বের কোনো সুযোগ সুবিধা দেয়নি।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ অক্টোবর মো. হাফিজুর রহমান হাইকোর্ট বিভাগে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে সোমবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি কাজী মো. ইজাজুল হক আকন্দ আদালত অবমাননার ওই রুল জারি করে আদেশ প্রাপ্তির ১০ (দশ) দিনের মধ্যে রুলের জবাব দেয়ার জন্য ভাইস-চ্যান্সেলরকে নির্দেশ দেন বলে জানান মামলার বাদী।


No comments:
Post a Comment