বেচারা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ কি আর কম চেষ্টা করে গেলেন! অন্তত রাঁচিতে শেষ ম্যাচটা জিতে কিছুটা মানসম্মান নিয়ে বাড়ী ফিরে যাওয়ার? কিন্তু তা আর কই হতে দিলেন বিরাট কোহলি। শচিন টেন্ডুলকারের যোগ্য উত্তরসূরী কোহলি যেন পণ করেই নেমেছিলেন লংকানদের ধবলধোলাই করার জন্য। বলতে গেলে সেটা একাই করে যেভাবে উদযাপন করলেন কোহলি, মনে হলো দুনিয়া জয় করে ফেললেন।
অমন উদযাপন কোহলিকেই মানায়। মহেন্দ্র সিং ধোনির পর যে তাকেই ভাবা হচ্ছে ‘টিম ইন্ডিয়া’র কর্ণধার! এদিন কোহলি (১৩৯*) ক্যারিয়ারে ২১তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ম্যাথিউজের শ্রীলংকাকে ধবলধোলাই করেই ছাড়লেন।
ও, হ্যাঁ কোহলির কথা বেশি বলতে গিয়ে যে অন্যায়ই হয়ে যাচ্ছে ম্যাথিউজের প্রতি। এদিন কম যাননি লংকান দলপতি। গত দু’বছর ধরে রান করাকে পৃথিবীর অন্যতম সহজ কাজে পরিণত করা ম্যাথিউজ ১১৬ বলে অপরাজিত ছিলেন ১৩৯ রানে। এরমধ্যে ছক্কা কটি মেরেছেন জানেন? ১০টি। বাউন্ডারী ৬টি। বোঝাই যাচ্ছে রোহিত শর্মার সেদিনের বদলা নিতে প্রতিশোধস্পৃহা ম্যাথিউজের মধ্যে জেগে উঠেছিল!
বাকিদের মধ্যে লাহিরু থিরিমান্নে ৫২ এবং দিলশান ৩৫ রান করলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে লংকার স্কোরবার্ডে ওঠে ২৮৬/৮ রান। ধাওয়াল কুলকার্নি ৫৭/৩, অক্ষর প্যাটেল ৪৫ এবং রবিচন্দ্র অশ্বিন ৫৬ রান দিয়ে পান ২টি করে উইকেট।
কিন্তু শেষ অবধি ভারত অধিনায়ক কোহলিও ম্যাথুউজের মতো অপরাজিত থাকলেন ১৩৯ রানে। ১২৬ বলে খেলা তার এ ইনিংসে ছিল ১২টি চার, তিনটি ছক্কা। কোহলি জয় পেলেন আর ম্যাথুউজের সাত্বনা ম্যাচসেরার পুরস্কার। ধবলধোলাইয়ের লজ্জা কি আর ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে ঢাকতে পারবেন লংকান দলপতি। তাই বলাই যায় ম্যাথুউজ ভাল, কোহলি আরও ভাল।
কোহলির অমন জ্বলে উঠার দিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এসছে আম্বাতি রাউডুর (৬৯) ব্যাট থেকে। ৭৩ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন অজন্তা মেন্ডিস। সিরিজ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন কোহলি। ২ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটের জয় নিয়ে যখন বীরদর্পে কোহলি মাঠ ছাড়ছেন তখন স্কোরবোর্ডে দেখাচ্ছিল ভারত: ৫-০শ্রীলংকা!


No comments:
Post a Comment