অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হচ্ছেন খালেদা আক্তার। রোববার ভর্তির আনুসঙ্গিক কাজ শেষ করেছেন। আগামী ১৯ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সকালে বাবার সঙ্গে ঢাবি ক্যাম্পাসে আসেন খালেদা। ভর্তি সংক্রান্ত আনুসঙ্গিক কিছু শেষ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিহতের ঘটনায় ভর্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় তিনি ফিরে যান। আগামী ১৯ নভেম্বর তিনি বাকি কাজ শেষ করতে ক্যাম্পাসে আসবেন।
ঢাকা ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিগতভাবে খালেদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
খালেদা আক্তার সংবাদ প্রতিদিন২৪ অনলাইন ডটকমকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হতে বাবাকে নিয়ে এসেছিলাম। কিছু কাজ হয়েছে। আগামী ১৯ নভেম্বর আবার আসতে হবে।’
মেধাবী ছাত্রী খালেদা কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লী তারাপাশার হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে। তার বাবা আলাল উদ্দিন অন্যের জমিতে কাজ করে সাত সদস্যের পরিবারের ভরণ পোষণ চালান।
পরিবারের তিন মেয়ে-দুই ছেলের মধ্যে খালেদা দ্বিতীয়। বড় মেয়ে উম্মে হাবিবা কামিল পাশ করে বাড়িতে দর্জির কাজ করছেন। তৃতীয় মেয়ে পলি আক্তার স্থানীয় হারেঞ্জা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ছে। দুই ছেলে আজাদ রহমান সপ্তম শ্রেণীতে ও সাজ্জাদ হোসেন দ্বিতীয় শ্রেণীতে।
২০১২ সালে হারেঞ্জা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেন খালেদা। চলতি ২০১৪ সালে হোসেনপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক শাখায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পান। এরপর শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খ-ইউনিটে মানবিক শাখায় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। এতে মেধা তালিকায় ১৩৮-তম স্থান অর্জন করে অর্থনীতি বিষয়ে ভর্তির পান। কিন্তু অর্থাভাবে ঢাবিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত থেকে সড়ে আসেন।
গত ১০ নভেম্বর "ঢাবিতে ১৩৮তম হয়েও ভর্তি হতে পারছেন না মেধাবী ছাত্রী খালেদা" শিরোনামে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়। এরপর দেশ বিদেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। সংবাদ প্রতিদিন২৪ অনলাইন ডটকমের কাছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার অসংখ্য ফোন আসতে থাকে হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী মেয়েকে সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য। অনেকেই তার পাশে দাঁড়াতে চান। বেসরকারি অনেক সংস্থা থেকে তার শিক্ষা খরচ বহন করার ইচ্ছার কথাও জানানো হয়।
ঢাবি ও বুয়েটের অনেক শিক্ষার্থী সংবাদ প্রতিদিন২৪ অনলাইন ডটকমের অফিসে ফোন দিয়ে খালেদার জন্য তহবিল গঠন ও ব্যাংকে যৌথ হিসাব খোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হলেই তার পাশে সক্রিয়ভাবে দাঁড়ানোর জন্য অপেক্ষা করছেন তারা।
সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে খালেদা বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও ভাবতে শুরু করেছিলাম, উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন বুঝি আর পূরণ হবে না। কিন্তু সংবাদ প্রতিদিন২৪ অনলাইন ডটকমে সংবাদ প্রকাশের পর ঝড়ের মতো ফোন পেয়েছি। সবাই সাহস দিয়েছেন। পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন। তাদের অনুপ্রেরণা পেয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি।’
খালেদা বলেন, ‘যারা আমার পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন তাদের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ। তাছাড়া ঢাকাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফোন করে যেসব ভাইয়া আর আপু সাহস দিয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা। সেই সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’


No comments:
Post a Comment