জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার জ্বালা খুব বেশি আঘাত করেছে সম্ভবত দিয়েগো কস্তাকে। স্প্যানিশ কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ককে দেখিয়ে দেওয়ার মানসিকতাও হয়তো কাজ করেছে ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভুত এই স্ট্রাইকারের মনে! এ কারণেই হয়তো, অ্যানফিল্ডে গিয়ে স্বাগতিক লিভারপুলের জালে জয়সূচক গোলটি করলেন তিনি।
তার করা গোলেই শেষ পর্যন্ত মহারণে অলরেডদের ২-১ ব্যবধানে হারিয় প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষস্থানটা আরও নিরঙ্কুশ করে নিল হোসে মরিনহোর ক্লাব চেলসি। ১১ ম্যাচ শেষে চেলসির পয়েন্ট দাঁড়াল ২৯-এ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাউদাম্পটন ১০ ম্যাচ খেলে অর্জণ করেছে ২২ পয়েন্ট। ২০ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়স্থানে রয়েছে ম্যানসিটি। আর লিভারপুলের অর্জন ১১ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট।
অ্যানফিল্ডে ম্যাচের শুরুতেই গত মৌসুমে সর্বশেষ চেলসি-লিভারপুল ম্যাচ নিয়ে বাতাস বেশ সরগরম ছিল। সেবার লুইস সুয়ারেজ ছিলেন লিভারপুলের খেলোয়াড়। তার বর্ণবাদী আচরনই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। হোসে মরিনহোও এ বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে বাধ্য হন।
যদিও পয়েন্ট টেবিলে দু’দলের অবস্থান আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তবুও গত মৌসুমে সর্বশেষ স্টামফোর্ড ব্রিজে চেলসির কাছে ২-০ গোলে লিভারপুলের হার এবং দু’ক্লাবের পুরনো সম্পর্কের কারণে বেশ উত্তপ্ত ছিল পরিস্থিতি। অ্যানফিল্ডে ব্রেন্ডন রজার্সের শিষ্যরা ছিল জয়ের জন্য মরিয়া। কিন্তু একজন ভালো ফিনিশার না থাকায় শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনেই ফিরতে হয়েছে গ্যালারিতে উপস্থিত প্রায় ৪৫ হাজার দর্শককে।
খেলার শুরুতেই অবশ্য এগিয়ে গিয়েছিল লিভারপুল। ৯ মিনিটের মাথায় রহিম স্টার্লিংয়ের পাস থেকে বল পেয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত এক শট নেন এমরি চ্যান। বল গিয়ে সোজা আশ্রয় নেয় চেলসির জালে। উল্লাসে ফেটে পড়ে অ্যানফিল্ডের দর্শকরা। কিন্তু তাদের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র ৫ মিনিটের মাথায়, খেলার ১৪ মিনিটে চেলসিকে সমতায় ফিরিয়ে দেন গ্যারি কাহিল।
নেমজান মাতিকের কর্নার কিক থেকে ভেসে আসা বলে বক্সের বাম পাশে কাহিলের পায়ে এসে পড়ে। ফাঁকায় থাকা গ্যারি কাহিল কাল বিলম্ব না করে জড়িয়ে দেন লিভারপুলের জালে। ১-১ সমতাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের খেলাও এ অবস্থায় শেষ হয়ে যায় ২২ মিনিট। এরপরই চেলসির ত্রানকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন দিয়েগো কস্তা।
খেলার ৬৭ মিনিটে আজপিলিকুয়েতার কাছ থেকে বল পেয়ে উইলিয়ান পাস দেন কস্তাকে। ফিলিপ কাওতিনহোকে কাটিয়ে বক্সের দিকে বল নিয়ে এগিয়ে যান কস্তা। সামনে বাধা ছিলেন আলবার্তো মোরেনো এবং গোলরক্ষক মিগনোলেট। এ দু’জনও পারেনি কস্তাকে থামাতে। দুর্দান্ত শটে বল জড়িয়ে দেন লিভারপুলের জালে।


No comments:
Post a Comment